logo
logo
add image
news image

মাকে হত্যার পর রক্তাক্ত শরীরে সিগারেট কিনতে গেল ছেলে

এক ইয়াবা খোরের কান্ড....................................
মাকে হত্যার পর রক্তাক্ত শরীরে সিগারেট কিনতে গেল ছেলে

নিজের গর্ভধারিনী মাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে খুন করার পর ছেলের সিগারেটের নেশা চেপেছিল মিলন নামের এক ইয়াবাসেবী তরুনের ।। তাই রক্ত মাখা শরীরে ছুটে গেল বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকানে সিগারেট কিনতে গেল ।। সিগারেট কিনে বড় বড় কয়েকটা সুখটান দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো ।। মিলনের শরীরে ছোপ ছোপ রক্তের ।। স্থানীয় লোকজন তার গায়ে রক্ত দেখে সন্দেহ হয়। পরে কিছু লোকজন তার বাড়ি গিয়ে তার বৃদ্ধা মায়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ ঘরের চৌকির উপর পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়া তার মায়ের হাতের একটি কবজি ভাতের পাতিলে পানিতে ভেজানো দেখতে পায়। সাথে সাথেই এলাকাবাসী মিলনকে আটককে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ।।। প্রত্যক্ষদর্শীরা এলাকাবাসী জানান, মাকে নির্মম ভাবে হত্যা করার পরও পাষন্ড পুত্রের মধ্যে কোন অনুশোচনা দেখা যায়নি ।। বরং হাসতে হাসতে বলছিল.....আমি এখন বাবা (ইয়াবা ) খাবো ।। আমাকে কেউ ডিষ্টার্ব করিস না ।।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায়।। বৃদ্ধা মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে খুনের অভিযোগে ইয়াবাসেবী ছেলে মিলনকে (৩৫) আটক করে পুলিশে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে দুদিন আগে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাড়িতে।রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৬০) পৃথক একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মিলন (৩৫) অনেক আগে থেকেই মাদকাসক্ত । বছর দুয়েক আগে থেকে ইয়াবা সেবন করা শুরু করে ।।ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ।। মা তো সন্তানকে ফেলে দিতে পারেন তাই না ।। সে জন্য মিলন মায়ের সঙ্গেই থাকেন। ছোট ছেলে আলমগীর হোসেন বিয়ে করে অন্য জায়গায় বসবাস করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকী জানান, লাশের কাছে যাওয়া যাচ্ছে না দুর্গন্ধের কারণে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতক মিলন তার মাকে দুই একদিন পূর্বে কুপিয়ে হত্যা করে ঘরেই ফেলে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মিলন বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকানে সিগারেট কিনতে আসলে স্থানীয় লোকজন তার গায়ে রক্ত দেখে সন্দেহ হয়। পরে কিছু লোকজন তার বাড়ি গিয়ে তার বৃদ্ধা মায়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ ঘরের চৌকির উপর পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়া তার মায়ের হাতের একটি কবজি ভাতের পাতিলে পানিতে ভেজানো দেখতে পায়।

প্রতিবেশী ইব্রাহিম জানায়, বাবা খাইতে খাইতে মাঝে মাঝেই মিলনের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যেতো। সে কিছুদিন ভালো থাকে আবার কিছুদিন ভিন্ন রকম আচরণ করে। কয়েক বছর পূর্বে তার মাকে আরও একবার জবাই করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে সে ৬ মাস জেলে থাকার পর বেরিয়ে আসে।

ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) রাজীব কুমার দাশ জানান, মাকে হত্যার সন্দেহে ছেলে মিলনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর পাঠানো হবে।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top