logo
logo
news image

সেবা খাতগুলোতে দুর্নীতির শিকার দেশের ৬৬.৫ শতাংশ মানুষ

দেশের সেবা খাতগুলোতে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৬৬.৫ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২.৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়। এ ছাড়া পাসপোর্ট অফিসে ৬৭.৩ শতাংশ এবং বিআরটিএ-তে ৬৫.৪ শতাংশ দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস ভবনে টিআইবির কার্যালয়ে এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে টিআইবির চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

টিআইবির জরিপ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দুর্নীতিগ্রস্ত খাত যথাক্রমে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ।

সেখানে আরো বলা হয়, দেশের ৮৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ঘুষ না দিলে কোনো সেবা খাতে সেবা মেলে না। ২০১৭ সালে এ জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

একইসঙ্গে দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিতে খসড়া আইনটির এই বৈষম্যমূলক বিধান বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। খসড়ায় মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় নিয়োগের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতসহ অন্যান্য ইতিবাচক ধারা অন্তর্ভুক্তির সংবাদকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়ার তথ্য এবং ঘুষ ছাড়া সেবা না পাওয়ার তথ্যে বোঝা যায়, ঘুষ আদায় অনেকটাই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে। বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমেনি এমন প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির এই ব্যাপকতা উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, ‘একসময় ধারণা করা হয়েছিল, বেতন-ভাতা বাড়লে দুর্নীতির প্রকোপ কমবে। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না। যাঁরা ঘুষ আদায়ে অভ্যস্ত, তাদের জন্য বেতন-ভাতা কোনো উপকরণই নয়।’ জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তরুণেরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার।’ তাঁদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দুর্নীতির এত ব্যাপকতার মধ্যে সম্প্রতি সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আইনের চোখে সবার সমান হওয়া উচিত। আমাদের যা আইন আছে তা সময়োপযোগী এবং যথার্থ। তবে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রেই আমাদের যত ঘাপলা।’

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top