logo
logo
add image
news image

জাবি ছাত্রলীগের বেপরোয়া আচরণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে

নুর হাছান নাঈম,জাবি প্রতিনিধি: জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যখন ইমেজ উদ্ধারে অবতীর্ণ হয়েছে, ঠিক তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তাদের ইমেজকে বহাল রাখা তো দূরে থাক, আরও সংকটে ফেলছে। গত ১৫ দিনে এই শাখার নেতা- কর্মীরা ভর্তি পরীক্ষা আটকে দেওয়া, সাংবাদিক ও ছাত্রী মারধর, ছাত্রী অপহরণ চেষ্টা, হলের রুম ভাড়া দেওয়া, ক্যান্টিন বয়দের মারধর সহ ইভটিজিং, ছিনতায় ও চাঁদাবাজির মত অঘটনের জন্ম দিয়ে তারই প্রমাণ রেখেছে।
ছাত্রলীগের এমন সব বিতর্কিত কর্মকান্ডে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলকে এ শঙ্কার কথা তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম।

এই বছরের এপ্রিল মাসে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলার সময় ইংরেজী বিভাগের ৪৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী কাজলকে মারধর করে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক নিলাদ্রী শেখর মজুমদার। এরই জের ধরে গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে বটতলায় কাজল তার বন্ধুদের নিয়ে নিলাদ্রিকে মারধর করে। এতে শহীদ সালাম বরকত হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রন করে।  
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছিনতাইয়ে বাঁধা দেয়ার অপরাধে সাংবাদিকতা বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও চ্যানেল আই অনলাইনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ ঘটনায় ২ অক্টোবর দুপুরে নেতৃত্বদানকারী নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও শহীদ রফিক জব্বার হলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নেজাম উদ্দিন নিলয় সহ সাত জনকে সাময়িক বহিস্কার করে প্রশাসন। কিন্তু বিকেলে নিলয় সহ তিন জনকে বাদ চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়। এ আদেশের দুইদিন পর ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে সেই বহিষ্কারাদেশও স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয় নিয়ে উপাচার্য  বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্যই বহিস্কার আদেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। সেইসাথে ছাত্রলীগ ভর্তি পরীক্ষা আটকে দেওয়ার যে ইঙ্গিত প্রদান করেছে তাও বিভিন্ন কথার মাধ্যমে তুলে ধরেন উপাচার্য।
বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত এই চার শিক্ষার্থী সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী। আর মূল হোতা নিলয়সহ তিনজন(যাদের বহিস্কার তুলে নেয়া হয়েছে) সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী। এতে সভাপতি গ্রুপ চাপ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
৩ অক্টোবর পঁচা ও বাসি ভাতে’র অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের তিন ক্যান্টিন কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দর্শন বিভাগের ৪৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে।
২ অক্টোবর দুপুরে জাল টাকার নোট সরবরাহের অভিযোগে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবককে প্রথমে বটতলা ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে নিয়ে কয়েক দফা তাকে মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় মারধরকারীরা তার কাছে থাকা বেশ কিছু টাকা রেখে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। পরে জানা যায়, তিনি জাল টাকার ব্যবসার সাথে জড়িত নন। বিষয়টি ভূল বুঝাবুঝি ছিল।
২ অক্টোবর মধ্যরাতে ‘ইভটিজিংয়ের’ সূত্র ধরে মীর মশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুনি হলের ছাত্রলীগের নেতা- কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যেখানে গুলি ছোড়া, বাইকে আগুন, কাচের বোতল নিক্ষেপ সহ ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এতে প্রায় ৩০ জনের অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। এরই জের ধরে পরদিন বিচার দাবি করে আল বেরুনি হলের ছাত্রলীগের নেতা- কর্মীার জীববিজ্ঞান অনুষদের ১ম শিফটের ভর্তি পরীক্ষা আটকে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের সভাপতি- সম্পাদকের হস্তক্ষেপে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘন্টা পরে পরীক্ষা শুরু হয়। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাখা ছাত্রলীগ ১০ জন নেতা- কর্মীকে আগামী এক মাসের জন্য বহিস্কারের সুপারিশ করেছে।  
প্রেম ও বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদুল ইসলাম সজল তার বন্ধুদের সহযোগীতা নিয়ে একই বিভাগের ৪৪ তম আবর্তনের এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় সজলকে সাময়িক বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এখনো সজল ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা চেয়ে জাবি প্রশাসন বরাবর আবেদন করছে ওই ছাত্রী।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top