logo
logo
add image
news image

মেয়েদের একটা বিষয় নিয়ে কথা বলি

একদিন একটি মেয়ের ঋতুস্রাব হয় স্কুল মাঠে। পিটি স্যার সবাইকে দাঁড় করিয়ে লেফট রাইট করাচ্ছেন, হঠাৎ মেয়েটি টের পায় কিছু একটা ঘটে যাচ্ছে। বিব্রতকর অবস্থাটি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তার সাদা কামিজের উপর থেকেই রক্ত দেখা যাচ্ছে।

অন্য একটি মেয়ের কথা বলছি। শীতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে হঠাৎ গাড়িতে প্রথমবারের মত ঋতুস্রাব ঘটে গেল ! তার পরনে ছিল নীল শর্ট স্কাট। বয়স ছিল ১৩।
প্রচণ্ড ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলার মত অস্বস্তিততা নিয়ে সে চুপচাপ গাড়িতে বসে ছিল। মা' কে কিছু না বলার পরেও মা বুঝে ফেলেছিলেন। তিনি গাড়ি সাইড করে তার ওড়না দিয়ে মেয়েটিকে ঢেকে রাখলেন। সবার সামনে কেমন লজ্জায় মরে যাবার মত একটা বিশ্রী অভিজ্ঞতা হল,এটি মনে করে এখনও তার শরীর কেঁপে উঠে।

একটি ছেলে হঠাৎ এরকম কোন ঘটনার সন্মুখিন হলে অবশ্যই সে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিত। মেয়েরা এরকম না। তারা আগলে রাখতে জানে। ধৈর্য ধরতে জানে। কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের কথা নিজেকে বলার এক অদ্ভুদ নিয়ম শিখে ফেলে তারা।

প্রত্যেকটি মেয়ের এরকম অসংখ্য ইতিকথা থাকে। সব কথা বলে ফেলার পরও এরকম অসংখ্য কথা তারা বলতে পারে না। একটি জিনিস মাঝে মাঝে আমাকে খুব লজ্জায় ফেলে দেয়। যে ব্যাপারটি নিয়ে মেয়েদের গর্ব করার কথা ছিল, বুক চিতিয়ে বলবার কথা ছিল, আমরা নারীরাই জন্ম দেই পুরুষদের। সেই ব্যাপারটিই কিনা তাদের লজ্জায় মেরে ফেলে !

ফার্মেসীতে ভিড়ের ঠেলায় এক গাঁদা পুরুষের মাঝে একটি মেয়ে স্পষ্ট গলায় বলতে পারে না সে ন্যাপকিন কিনতে এসেছে। সে অপেক্ষা করে, কখন মানুষ কমবে। দোকানদার ( সবাই না ) যখন জানে সে এই জিনিস কিনতে এসেছে তখন কেমন করে যেন তাকায়। কীভাবে যেন শুয়রের মত করে হাসে।

ঋতুস্রাবের মত সাধারণ একটি বিষয়কে আমরা খুব নিষিদ্ধ মনে করি। বাংলাদেশের প্রায় মেয়েদের রমজানে পিরিয়ড হবার পরেও সবার সাথে এক সাথে বসে সেহেরী খেতে হয়।
যেন কেউ বুঝতে না পারে। রোজা রাখতে না পেরেও সারাদিন না খেয়ে থাকে এরকম মেয়ের সংখ্যা প্রচুর।

এরপরেও মেয়েটিকে আমরা মুক্তি দেই না। 'রোজা কয়টা রেখেছো' এ জাতীয় প্রশ্ন করে তাদের বিব্রত করতে আমরা ছাড়ি না। কী সাংঘাতিক একটি অপরাধ আমরা দিনের পর দিন করে যাচ্ছি ভাবা যায় ?

ছেলেদের খৎনা হলে কমিউনিটি সেন্টারে লোকজন নিয়ে উৎসব করা হয়। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া কেটে ফেলার মত ঘটনা হয় উৎসবের। আর একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেবার অংশ বিশেষ ঋতুস্রাবের মত ঘটনার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, সেটি হয় গোপন, লজ্জাকর !

আমরা ভাবি ব্যাপারগুলো একান্ত মেয়েদের। ছেলেদের না জানলেও চলবে। মেয়ের মা এক সময় মেয়েকে আড়ালে ডেকে বুঝিয়ে বলবে। ব্যাস কাজ শেষ। আসলে ব্যাপারটি এরকম না। আপনার ছেলে কিংবা ছোট ভাইকেও এই ব্যাপারটি বোঝাতে হবে। তা না হলে তারা এই নিয়ে চুপিচুপি কথা বলবে। এবং তারাই আশে পাশের কোন মেয়েকে বিব্রত করতে ছাড়বে না। তাকে জানাতে হবে, দেখো একটি মেয়েকে মা হবার জন্য কত সংগ্রাম করে যেতে হয়। কোন মেয়ের পিরিয়ড হয়েছে এটা জেনে যদি তোমার বন্ধুরা হাসাহাসি করে তাহলে তুমি তোমার বন্ধুদের জানিয়ে দিবে, তাদের মা দেরও মাসের একটি সময় এরকম হয়।

মানসিক দিক দিয়ে কেউই নারী হয়ে জন্ম নেয় না। অজস্র লজ্জা অজস্র বিব্রতবোধ আর সংকীর্ণতা দিয়ে আমরা একটা মানুষকে নারী বানিয়ে ফেলি।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top