logo
logo
news image

জাতীয় নিবার্চনে ভোট দিতে চান শ্রমজীবী মানুষরা

আগামী ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় নিবার্চনে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন শ্রমজীবী মানুষরা; তাদের চাওয়া, ভোট হোক শান্তিপূণর্, ফল নিয়েও যেন কোনো ‘গ্যাঞ্জাম’ না হয়। দশম সংসদ নিবার্চন অধিকাংশ দল বজর্ন করার প্রেক্ষাপটে আগামী নিবার্চন নিয়ে নিজেদের এই প্রত্যাশার কথা জানান তারা। অনেকের স্মৃতিতে উঠে এসেছে ‘ছোটবেলায় দেখা’ ভোটের গল্পও, যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় ‘ব্যালটবাক্স চুরি’ যাওয়ার মতো ঘটনাও। মাদারীপুরের জামাল কিশোর বয়সে ১৯৮৮ সাল ঢাকায় আসেন। সুষ্ঠু ভোটে যে ক্ষমতায় আসবে সেই দেশ চালাবে, এটাই তার চাওয়া। জামাল বলেন, ‘আমার কথা হইলো আনন্দ-ফুতির্ করে ভোট দিব।’ জীবিকার জন্য রিকশা চালানোকে বেছে নিয়ে ৩০ বছর ধরে এ পেশাতেই থাকা জামাল বললেন তার ‘ভোটের স্মৃতি’। তিনি বলেন, ‘ভোট দেয়া নিয়ে প্রত্যেক মানুষের একটা আগ্রহ থাকে। ছোটকালে দেখতাম বাপ-চাচারা আমাগো লইয়া যেত স্কুল মাঠে, ভোট দিতে। আমরা এইডা-সেইডা কিনে খাইতাম, হেরা ভোট দিত। কী একটা উৎসব হতো! মাঝে-মধ্যে চেয়ারম্যান ইলেকশনে ভোটের বাক্স-বুক্স লইয়া দৌড় দিত, তারপরও আনন্দ থাকত।’ ভোট নিয়ে একই সঙ্গে সংশয় ও প্রত্যাশার আভাস মেলে জামালের কথায়। জামাল বলেন, ‘এখন মানুষের বিশ্বাস নেই ভোট দিতে পারব, কি পারব না। তারপরও আমরা আগের মতো আনন্দ-ফূতিের্ত ভোট দিতে চাই, দাঙ্গা-হাঙ্গামা চাই না। নিবার্চনে মারামারি বা সংঘষর্ এটা কেউরই কাম্য না।’ শ্রমজীবী জামাল বলেন, ‘আমরা রিকশা চালাইয়া খাই। শান্তিমতো যেন রিকশা চালাইতে পারি, রুজি-রোজগার ভালো হবে, শান্তিতে দুইটা ভাত খাইতে পারব।’ ১৫ বছর আগে ঝালকাঠি থেকে এসে নগরীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোডের্র ভেতরে পান-সিগারেট বিক্রি করছেন প্রতিবন্ধী ফিরোজ মেড্ডা। তিনি বলেন, ‘আমি তো রাজনীতি বুঝি না, করিও না। তবে আমার ভোট আছে, আমি ভোট দিব। একটা ভোট অনেক মূল্যবান। আমার ভোট আমিই দিতে চাই।’ জামালের মতো ফিরোজেরও চাওয়া, ভোট হোক শান্তিপূণর্। তিনি বলেন, ‘আমার এইটা করেই (পান বিক্রি) খাইতে হবে। আমরা চাই দেশ থেকে মারামারি-কাটাকাটি না হোক। কেউ গোস্ত-মাছ দিয়ে খাবে, আমি ডাল দিয়ে খাব, তারপরও শান্তিÍতে থাকতে চাই। যে সরকারই আসুক, আমাদের কমর্ আমাদের করেই খাইতে হবি। দেশটা যেন ভালো থাকে।’ কুমিল্লার লাকসাম থেকে এসে রাজধানী শহরে ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করেন মুহাম্মদ ইউসুফ। এ হকার বলেন, ‘আমি একটা ভালো নিবার্চন চাই, যাতে কোনো ঝগড়াঝাটি, মারামারি..... নিবার্চনের সময় তো কত মানুষই মারা যায়! আমি এইডা চাই না।’ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিবার্চনের প্রত্যাশা জানিয়ে ইউসুফ বলেন, ‘একটা মানুষের মূল্য অনেক, ছোট থেকে একটা মানুষকে লালন-পালন করে বড় করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কোনো মানুষ মারা যাবে সেটা আমি চাই না। যে দলই সরকার হয়ে আসুক আমরা চাই সুন্দরভাবে আসুক। আমরা চাই নিবার্চনে কারও মৃত্যু না হোক, বা রক্তারক্তি না হোক।’ আরেক রিকশা চালক মো. আমির হোসেন বলেন, “আমি একটা সুষ্ঠু নিবার্চন চাই। যাতে করে কোনো ধরনের গ্যাঞ্জাম না হয়। সবাই যেন তার নিজের ভোট দিতে পারে।’ ‘সুন্দর’ একটি নিবার্চনের কথা বলতে গিয়ে আমির বলেন, ‘নিবার্চন আসবে, দলাদলি হবে, মারামারি হবে, এমন পরিস্থিতি আমি চাই না। সুন্দর করে একটা নিবার্চন হবে, যে বেশি ভোট পাবে ক্ষমতায় যাবে। আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’ ডাব বিক্রেতা নারী মমতাজ বেগম বলেন, ‘একটা ভালো-সুষ্ঠু নিবার্চন হলে সবার জন্য ভালো হয়। নিবার্চন সুষ্ঠু করতে হলে মারামারি বন্ধ করতে হবে। নিবার্চন এলেই তো দলাদলি বেড়ে যায়। আমি চাই, নিবার্চনে কোনো হানাহানি হবে না, হরতাল হবে না, গাড়ি ভাঙ্গা হবে না।’ বগুড়া থেকে আসা আসা রিকশাচালক মো. সৌরভের চাওয়াও ছিল মমতাজ বেগমের মতো। ‘নিবার্চন সুষ্ঠু হবে এটা সবারই প্রত্যাশা। নিবার্চন নিয়ে মারামারি করা খুব খারাপ। মারামারি-কাটাকাটি-হানাহানিÑ এগুলো না হয়ে ভালোভাবে একটা নিবার্চন চাই।’ সব রাজনৈতিক দলই শেষ পযর্ন্ত নিবার্চনে থাকবে বলে আশা করছেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য একটা নিবার্চন; যে নিবার্চনে কোনো তৃতীয়পক্ষও হস্তক্ষেপ করবে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিবার্চনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাবে।’ ‘স্বপ্নের গণতান্ত্রিক নিবার্চন’ নিয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘ফলাফল বিজয়ী ও পরাজিত দল সহজে মেনে নেবে, নিবার্চন নিয়ে কোনো সংঘাত বা মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ রাজধানীর বাসিন্দা আরিফ আহমেদ বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নিবার্চন আমরা সাধারণ জনগণ আশা করি। নিবার্চন নিয়ে সংঘাত হোক এটা কারও কাম্য নয়। কারণ কোনো মারামারি-সংঘাত দেশের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসে না।’ তবে নিবার্চনে সংঘাতের আশঙ্কা দেখছেন সরকারি কমর্কতার্ ওয়ালিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘বতর্মান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলছে, এবার সব দলই নিবার্চনে অংশ নেবে। তবে সরকারি দলের নেতাকমীের্দর প্রভাব সুষ্ঠু নিবার্চনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলাফলস্বরূপ ঐক্যফ্রন্টের পরাজয় নিবার্চন পরবতীর্ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।’ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকেই নিবার্চন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সূত্রঃ যায়যায়দিন

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top