logo
logo
news image

স্বপ্নপূরণে সেরা ১০টি পদক্ষেপ

হতে পারে আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজ পছন্দ করেন। অথবা পছন্দ করেন তথ্যপ্রযুক্তির কোনো বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে। পরামর্শ, ছবি তোলা ইত্যাদিও থাকতে পারে আপনার এ তালিকায়। কিংবা এমন কোনো বিষয়, যা এখনো নির্ণয় করতে পারেননি আপনি। এ লেখায় দেয়া পয়েন্ট ধরে নির্ণয় করুন আপনার স্বপ্নের সেই বিষয় এবং তা বাস্তবায়ন করুন।

১. আপনি কিসে ভালো?
আপনি যদি সদ্যোজাত না হন, তাহলে কোনো না কোনো বিষয়ে আপনার দক্ষতা ও মেধা আছে। এমনকি আপনি যখন খুব ছোট ছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন, তখনও নিশ্চয়ই আপনার মধ্যে কোনো বিশেষ গুণ প্রকাশ পেয়েছিল। আপনি কী একজন ভালো লেখক, বক্তা, আঁকিয়ে, ব্যবস্থাপক, নির্মাতা, শিক্ষক বা খুব ভালো বন্ধু? আপনার মাথায় কী মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে যোগাযোগ, সুন্দর বাগান করা, কোনোকিছু বিক্রি করার দারুণ সব আইডিয়া ঘোরাফেরা করে? নিশ্চিত না হলে এ প্রশ্নগুলো নিয়ে আধঘণ্টা চিন্তা করুন। যথাসম্ভব অতীতে গিয়ে চিন্তা করুন। আপনার শখ, প্রজেক্ট কিংবা চাকরি। আমরা প্রায়ই আমাদের দক্ষতার বিষয় ভুলে যাই। যদি একাধিক বিষয় আসে তাহলে তার একটা তালিকা করে ফেলুন।

২. কোন কাজটি আপনাকে রোমাঞ্চ দেয়?
এটা হতে পারে আপনার কাজের কোনো অংশ, যা করতে আপনি রোমাঞ্চিত হন। হতে পারে আপনি কাজের বাইরের কোনো বিষয়ে রোমাঞ্চিত হন। এর মধ্যে রয়েছে একটা শখ, কোনো একটা কাজ অথবা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে করা কোনো কাজ। পিতামাতা, সঙ্গী বা কোনো বন্ধুর জন্য করা কোনো কাজও হতে পারে এটা। আবার এমন কোনো কাজ হতে পারে, যা আপনি এখনো করেননি কিন্তু করার আশা করেন। আবার আধঘণ্টা চিন্তা করুন। লিপিবদ্ধ করুন সে কাজটি। যদি খুঁজে না পান, তাহলে আপনি হয়তো নিজের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

৩. আপনি  কী পড়েন?
ইন্টারনেটে আপনি সময় ব্যয় করে কোন বিষয়টি পড়েন? পড়ার জন্য কোন ম্যাগাজিনের খোঁজ করেন আপনি? কোন ব্লগ আপনি ওপেন করেন? বইয়ের দোকানের কোন অংশে চোখ বুলাতে আপনার ভালো লাগে? সেখানে অনেক বিষয় থাকতে পারে। এর সবগুলোই তালিকাবদ্ধ করুন।

৪. আপনার গোপন স্বপ্নের বিষয় কী?
স্বপ্নে আপনি কোন হাস্যকর কাজটা পেশা হিসেবে নিতে চান? হতে পারে স্বপ্নে আপনি একজন লেখক, শিল্পী, ডিজাইনার, আর্কিটেক্ট, ডক্টর, উদ্যোক্তা বা প্রোগ্রামার হতে চান। কিন্তু কিছু ভয়, সন্দেহ আপনাকে পেছন থেকে টেনে ধরে। হতে পারে এ তালিকায় আছে অনেকগুলো কাজ। যতোই অবাস্তব হোক, সবগুলোকেই আপনার তালিকায় যোগ করুন।

৫. শিখুন, জিজ্ঞাসা করুন ও নোট নিন
উপরের পয়েন্টের ভিত্তিতে আপনি একটা তালিকা তৈরি করলেন। এরপর সে তালিকা থেকে আপনার সবচেয়ে আগ্রহের কয়েকটি বিষয় নির্ণয় করুন। এগুলো হচ্ছে আপনার প্রথম প্রার্থী। এবার সে বিষয়টি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আপনার পড়াশোনা শুরু করুন। এ বিষয়ে ইন্টারনেটের সাহায্য নিন। এ ক্ষেত্রে যারা সফল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সাহায্য নিন ইন্টারনেটের। এরপর আপনি সে বিষয়ে দক্ষতার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তা শুরু করে দিন। পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার জন্য আর অপেক্ষা করবেন না।

৬. গবেষণা করুন, প্রচেষ্টা বজায় রাখুন
কয়েকটি বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করুন। স্বপ্নপূরণে এভাবেই শেখা শুরু করতে হয়। আপনি যদি আপনার পছন্দের বিষয় এখনো শুরু না করে থাকেন, তাহলে তা শুরু করে দিন। হতে পারে আপনি এখনই এ বিষয়টির জন্য প্রস্তুত নন। তাহলে এ বিষয়টি বাদ দিয়ে তালিকা থেকে অন্য একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাও থাকছে। এটি প্রাথমিকভাবে আপনার কাছে গোপন থাকলেও পরবর্তীতে তা সবার কাছে প্রকাশ করে দেওয়াই ভালো। এটা আপনার উৎসাহ বাড়াবে।

৭. তালিকা ছোট করুন
আপনার তালিকা ছোট করুন। কাজের প্রতি মনযোগ দিন। এগুলোই সেই কাজ, যা ছিল আপনার স্বপ্ন। যদি তালিকায় ৩ থেকে  ৫টি বিষয়ের বেশি থাকে তাহলে ৫ ও ৬ নং পয়েন্ট আবার অনুসরণ করুন। এ কাজে কয়েকমাস সময়ও লাগতে পারে। এটা যতোই প্রচলিত ক্যারিয়ার না হোক, আপনার কাজ আপনি করে যান।

৮. দূর করুন ভয়
কোনো কাজ শুরু করতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল অসফল হওয়ার ভয় ও দ্বীধা। আপনার কাজ এখন ভয় ও দ্বীধা ছুঁড়ে ফেলা। প্রথম পদক্ষেপ হবে ভয়কে কোনো পাত্তা না দেওয়া। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হবে চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো নোট করে ফেলা। এরপরের বিষয় হলো বিষয়বস্তুর গভীরে ঢুকে যাওয়া। চতুর্থ পদক্ষেপ, নিজেকে প্রশ্ন করুন। এ কাজে অসফল হলে সবচেয়ে খারাপ কী হতে পারে? সাধারণত এতে বড় কোনো ক্ষতি হয় না। পঞ্চম পদক্ষেপ, এ কাজটি সফল করুন যো কোনো মূল্যে। প্রত্যেক ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। অসফল হলে কী হতে পারে, তা ভুলে যান। এরপর প্রতিটা সামান্য অগ্রগতি পরিমাপ করুন। সামান্য সাফল্যও উদযাপন করুন।

৯. সময় বের করুন
আপনার সময় বের করতে পারছেন না? মনে রাখবেন, আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্বও এখন আপনার। এটাই হোক আপনার অগ্রাধিকার। এর অর্থ আপনাকে ঘুম থেকে একটু আগে উঠতে হবে, ছুটির দিনে সময় দিতে হবে অথবা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় ব্যয় কমিয়ে দিতে হবে। সামান্য পরিবর্তন করতে হবে আপনার দৈনন্দিন কাজের রুটিনে।

১০. আগ্রহের বিষয় যেভাবে বাস্তব হবে
এটা রাতারাতি হবে না। এতে ভালো করার জন্য আপনার কিছু না কিছু করতে হবে সবসময়। এর জন্য আগ্রহ থাকলে আপনি সফল হবেনই। এতে সময় লাগতে পারে কয়েক বছর পর্যন্ত । কিন্তু আপনি যদি এ কাজে আগ্রহ পান তাহলে সাফল্য আসবে সহজে। এ কাজে আপনি অনলাইনে নিজের একটা ব্লগ খুলতে পারেন। এতে লিপিবদ্ধ করবেন আপনার অগ্রগতিগুলো। এতে আপনার সঙ্গে পরিচয় হতে পারে এ ক্ষেত্রে সফল বা আগ্রহীদের সঙ্গে।

সূত্র : কালেরকন্ঠ

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top