logo
logo
add image
news image

মায়ের রান্না শীতের পিঠা খেজুর রস স্মৃতিময় দিনগুলি ছিল চির মধুর

শীতকালের সবচেয়ে মজার স্মৃতিগুলোর মাঝে- শীতের পিঠাপুলি, খেজুর রস, ওয়াজ মাহফিল, দলগত আগুন পোয়ানো, সকালের রোদ পোয়ানো উল্লেখযোগ্য।

মায়ের হাতে তৈরি ভাপা পিঠা, দুধ পিঠা, তেল পিঠা, কালাই পুলি, পাটি সাপটা, হরেক রকম পিঠা। অনেক পরিবারে জামাই মেয়েদেরকে কিংবা আত্নীয় স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে সবাইমিলে একসাথে আয়োজন করে পিঠা খাবার। দারুন সে মুহুর্ত। মনে পড়লে আফসোস ছাড়া করার কিছুই থাকে না। যারা শহরে জীবন-যাপন করে তারা গ্রামের মায়ের হাতের খাবার গুলোর কথা মনে পড়লে অনেক সময় আবেক প্রবন হয়ে চোখ দিয়ে পানি পড়ে নিজ অজান্তে। কত মধুর সে স্মৃতি। মা যে কত আপন দূরে থাকলে বোঝা যায়। আমি সবার মায়ের কথা বলতে পারবো না। আমার মায়ের যে খাবার গুলি আমার খুব প্রিয় তার মধ্যে সবজি খিচুড়ি, ভাপা পিঠা ও খেসারী কালাইয়ের বরা। এ তিনটি খাবার আমার খুব প্রিয়। সবার মা দারুন দারুন খাবার তৈরি করে যা তাদের সন্তানদের মনে দাগ কেটে রাখে।



গ্রামে ফিরলে দেখা যায় সবার মা তার সন্তানের প্রিয় কাবার তৈরি করে রাখে। এ হচ্ছে মায়ের অতুলনীয় গুন গুলির একটি। মায়ের তুলনা মা নিজেই।

সে জন্যই জ্ঞানীরা বলে গেলেন মা মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি এ তিনটি মহামূল্যবান।

শীতের স্মৃতি গুলোর মধ্যে আর একটি তা হল সকাল বেলা মিস্টি রোদ পোয়ানো পরিবারের সকলের সাথে। সাথে হালকা কিছু শুকনো খাবার সাথে চা। অনেক সময় আমাদের চোখে পড়ে গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা গাছের পাতা, খেড়, ডাল দিয়ে আগুন পোয়ানো। উষ্ণ গরম রাগে যখন দু হাতে তা গালে দিলে যে অনুভূতি লাভ করি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
চোখ বন্ধ করলেই ভেসে আসে সে দৃশ্য।



মাঝে মাঝে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ও মসজিদ কিংবা মাদ্রাসায় আয়োজন করা হয় বিরাট ইসালে সওয়াব ও ওয়াজ মাহফিল। বন্ধুরা সবাই মিলে চলে যেতাম সে মাহফিলে। মাহফিলের চারপাশে নানা রকম দোকান বসবো সারি সারি, মুখ রোচক খাবারের দোকান,কসমেটিকস আরো নানা ধরনের দোকান। সবাই মিলে খেয়ে বসে পড়তাম ওয়াজ শুনতে প্রধান বক্তার। যদিও অনেক বক্তা থাকে তবে বেশিভাগ মানুষ প্রধান বক্তার আকর্ষন বেশি সবসময়।

এবার আসি আমার সবচেয়ে দুরন্তপনার বিষয়টিতে তা হলো খেজুর রস। খেজুর গাছের প্রতি আমার একটা আলাদা আকর্ষন ছিল। বাড়ির পাশেই ছিল সরকারি কবরস্থান সেখানে ছিল ৭/৮ টি খেজুর গাছের সারি। পাশের বাড়ির ছিল কয়েকটি। আমি ত রোজ পাশের বাড়ির বিশাল খেজুর গাছে উঠে প্রতিদিন রস পারতাম। গাছটি ছিল

গ্রামের সবচেয়ে বড় খেজুর গাছ। গাছি না আসলে আমি উঠে খেজুর রস পারতাম সে বড় গাছটির।

আজ জীবনের তাগিতে সুদূর ঢাকায়। সরকারী কবরস্থানের সব খেজুর গাছ গুলি কাটা হয়েছে। ফুলের শত শত গাছ শোভা পাচ্ছে সেখানে। পাশের বাড়ির খেজুর গাছটিও অতি বেশি লম্বা থাকার কারনে ঝড়ে মাথাটা ভেঙে গেছে। সেই গাছি আর আসেনা আমাদের গ্রামে। দেখা হয়না তার রস নামার দৃশ্য। সব কিছু আজ অতীত। স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।

মজার একটি কথা বলি শ্রদ্ধেও পাঠক।

বয়স আমার বেশি না
ওরে টুকটুকির মা
খালি চুল কটা
পেকে গেছে বাতাসে।

কাক্কু নাটকের এ মজার গানটি শুনলে কিছু স্মৃতি মনে পড়ে খেজুর গাছ ও তার রস। সকলের মধুর শৈশব স্মৃতিগুলো জাগ্রত থাকুক সকলের জীবনে। এ কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।


লেখক-
ফিরোজ হোসেন ফাইন
ঢাকা কলেজ।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blog single photo
November 23, 2018

ফিরোজহোসেনফাইন

ধন্যবাদ সম্পাদক সাহেব

(0) Reply
Top