logo
logo
news image

৩০০ আসনে ৮০০ জন ধানের শীষের প্রার্থী

২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের কত আসন ছাড়া হচ্ছে জানতে চাইলে মিজার্ ফখরুল বলেন, সঠিক ফিগার বলা যাচ্ছে না। তবে ৬০ এর বেশি হবে না দুইদিনে ২০ দলীয় জোটের শরিকসহ প্রায় ৮০০ প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে বিএনপি। প্রতিটি আসনের একাধিক প্রাথী রাখায় মনোনয়নের চিঠি নিয়ে অনেকে সন্তুষ্ট হলেও ক্ষুব্ধ অনেকে। নিবার্চনী কৌশলের অংশ হিসেবে আসনগুলোতে একাধিক প্রাথীর্ রাখায় ধানের শীষের চ‚ড়ান্ত প্রাথীর্ কে হচ্ছেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৯ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের জন্য ইসিকে শেষ চিঠি দেয়ার আগ মুহ‚তর্ পযর্ন্ত। 

সোমবার গভীর রাত পযর্ন্ত মনোনীত প্রার্থীদের কাছে চিঠি বিতরণ পর মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে অবশিষ্ট প্রাথীের্দর কাছে চিঠি দেয়ার কাযর্কম শুরু হয় দলের গুলশান কাযার্লয়ে। পরে বিকালে গুলশান কাযার্লয় থেকে ঠাকুরগাঁও নিজের নিবার্চনী এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে প্রায় ৮শ’র মতো মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। বাছাই হয়ে যাওয়ার পরে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়টি ঠিক ঠিক করা হবে। 

২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের কত আসন ছাড়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিক ফিগার বলা যাচ্ছে না। তবে ৬০ এর বেশি হবে না। ২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, বিজেপি, খেলাফত মজলিশ, এলডিপি, জাতীয় পাটির্ (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এনপিপি, লেবার পাটির্, সাম্যবাদী দলকে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর সঠিক সংখ্যা বিএনপি মহাসচিব বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

তবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পাথর্, নড়াইল-২ এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, নারায়নগঞ্জ-৫ আসনে সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পাটির্র সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির অলি আহমেদ, কুমিল্লা- ৭ রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম, সুনামগঞ্জ- ৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর পাশা, কুমিল্লা-৬ সৈয়দ মহিউদ্দিন ইকরাম, যশোর-৫ মো. ওয়াক্কাস, খুলনা-৪ রেজাউল করীম, পিরোজপুর-২ আসনে লেবার পাটির্র মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পাটির্ (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গাইবান্ধা-৩ টিআই ফজলে রাব্বী, চাঁদপুর-৩ এসএমএম আলম, কুষ্টিয়া-২ আহসান হাবিব লিংকন, বি-বাড়ীয়া- ৪ সেলিম মাস্টার ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নের জন্য প্রত্যয়নের চিঠি নিয়ে গেছেন।

নিবার্চন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় দলীয় মনোনয়নের এই প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে। নিবার্চনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়ন দেয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নিবার্চন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পযর্ন্ত ধানের শীষের প্রাথীর্ হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আজ। আর প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পযর্ন্ত। 

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এ কারণে প্রার্থীদের নাম প্রত্যাহারের আগ পযর্ন্ত বিএনপি দলের প্রাথীের্দর নাম গোপন রাখার চেষ্টা করছে। কারণ এবার বিএনপি কোনোভাবে ভোটের মাঠ ছাড়বে না, যে কারণে মনোনয়নের চিঠি নিয়েও একটু বেশি সময় নেয়া হচ্ছে। সারা দেশে বিএনপির অনেক নেতার নামে মামলা আছে। অনেকে ‘মিথ্যা’ মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রাথীর্র নাম রাখা হয়েছে। একজন বাদ পড়লে যেন ওই আসনে দ্বিতীয়জন কিংবা তৃতীয়জন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারেন। 

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রিটানির্ং কমর্কতার্ বরাবর প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেয়ার আগ পযর্ন্ত চূড়ান্তভাবে দলীয় প্রাথীের্দর নাম জানানো হবে না। চিঠি পাঠিয়ে তারপর তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রাথীের্দর নাম প্রত্যাহারের আগ পযর্ন্ত সময় আছে, এ কারণে প্রাথীের্দর চিঠি দেয়ার বিষয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

এদিকে দ্বিতীয় দিনে গতকাল গভীর রাত পযর্ন্ত প্রার্থীদের মধ্যে চিঠি বিতরণ করে বিএনপি। তাই সকাল থেকে গুলশান কাযার্লয় ঘিরে অনেক নেতাকমীর্র ভিড় ছিল। অনেক আসনে একাধিক প্রাথীর্ দেয়ার কারণে অনেকে নিজের মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধায় আছেন। এদিকে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়ায় কোনো প্রাথীর্ নাম বলেনি। সোমবার মাইকে প্রাথীের্দর নাম ডাকা হলেও মঙ্গলবার তাও করা হয়নি। যারা ফোনে নিজের মনোনয়নের বিষয়টি জানতে পেরেছেন তারা এসে চিঠি নিয়ে গেছেন। 

মঙ্গলবার চিঠি পাওয়া নেতাদের অন্যতমরা হচ্ছেন, ঢাকা ৪ আসনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তানভীর আহমেদ, নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুগার্পুর) আসনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে শেখ মোহাম্মদ শামীম মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে তৌহিদুল ইসলাম, ফরিদপুর-৪ আসনে শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কুষ্টিয়া-৩ আসনে সোহরাব উদ্দিন, জাকির হোসেন সরকার, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে সাইফুল ইসলাম সুমন, জামালপুর-৩ আসনে মো. বদরুদোজ্জা, জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, চট্টগ্রাম-১ আসনে কামাল উদ্দিন ও নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনে সাইফুল ইসলাম। ময়মনসিংহ-৩ আসনে আহমেদ তায়েবুর রহমান, ময়মনসিংহ-১ আসনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আলী আজগর ও আফজাল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ আসনে শাহ শহীদ সোরওয়ার, ময়মনসিংহ-৩ আসনে তবিবুর রহমান হীরন ও মোহাম্মদ আব্দুর সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে এবিএম সিদ্দিকুর রহমান ও মো. আক্তারুজ্জামান। বরগুনা-২ আসনে ড. খন্দকার মাহবুব, নেত্রকোনা-৩ আসনে রফিকুল ইসলাম হেলালী, টঙ্গাইল-৪ আসনে লুৎফর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনে হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনে কাজী আলাউদ্দিন, শেরপুর-২ আসনে একেএম মোখলেসুর রহমান রিপন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও ডা. কেএম বাবর, গাইবান্ধা-৩ আসনে রওশন আরা খাতুন।

খন্দকার আবু আশফাক, ফাহিমা হোসেন জুগলি (ঢাকা-১), আমানউল্লাহ আমান, সাবেরা আমান (ঢাকা-২) গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী (ঢাকা-৩), নবী উলাহ নবী, অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া (ঢাকা-৫), কাজী আবুল বাসার, সাবেক সংসদ সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), এমএ কাইয়ূম, শামীম আরা বেগম (ঢাকা-১১), সাইফুল ইসলাম নীরব, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার (ঢাকা-১২), আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী (ঢাকা-১৩), এমএ সিদ্দিকী সাজু (ঢাকা-১৪), আহসান উলাহ হাসান, মোয়াজ্জেম হোসেন (ঢাকা-১৬), মে.জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী (ঢাকা-১৭), এসএম জাহাঙ্গীর (ঢাকা-১৮), দেওয়ান সালাউদ্দিন আহমেদ (ঢাকা- ১৯), ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান (ঢাকা-২০)। আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-১), ভিপি জয়নাল, জিয়া উদ্দিন মাস্টার (ফেনী-২), আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আব্দুল লতিফ জনি, আকবর হোসেন (ফেনী-৩), তৈমুর আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামান, শাহ আলম, (নারায়নগঞ্জ-১) মাহমুদুর রহমান সুমন (নারায়নগঞ্জ-২), মাকসুদুর আলম খন্দকার মোশের্দ (নারায়ণগঞ্জ-৫), শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন (মুন্সীগঞ্জ-১), মিজানুর রহমান সিনহা (মুন্সীগঞ্জ-২), আব্দুল হাই (মুন্সীগঞ্জ-৩), সানা উলাহ মিয়া, আকরাম হোসেন (নরসিংদী-৩), মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-১০), মোসা. সাবিরা সুলতানা, অ্যাড. মাওলানা ইসহাক (যশোর-২) , মো. আতাউর রহমান আতা (মানিকগঞ্জ-৩), মনির খান, আমিরুজ্জামান খান শিমুল (ঝিনাইদহ-৩) সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (ঝিনাইদহ-৪)

চিঠি পেলেন সংস্কারপন্থী ১৩ নেতা 

১/১১ ‘র সময়ে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি এমন ১৩ জনকে বিভিন্ন আসনের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হছেয়ে। এরা হলেন, রাজশাহী-৪ আসনে আবু হেনা, নওগাঁ-৬ আসনে আলমগীর কবির, বরিশাল-১ আসনে জহিরউদ্দিন স্বপন, নরসিংদী-৪ আসনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বরিশাল-২ শহীদুল হক জামাল, পটুয়াখালী-২ আসনে শহিদুল হক তালুদার, নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনে আতাউর রহমান আঙ্গুর, ঝালকাঠি-২ ইলেন ভুট্টো, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাজির হোসেন, বগুড়া-৪ আসনে জিয়াউল হক মোল্লা, বগুড়া- ৫ আসনে জিএম সিরাজ, যশোর-১ আসনে মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জয়পুরহাট-২ আসনে আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান। ২০০৭ সালে আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান বিএনপি থেকে কনের্ল অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি গঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।

প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মনোনয়নের চিঠি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনে প্রয়াত অথর্মন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান, পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, যশোর ১ আসনে প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ ইসলাম অমিত, মানিকগঞ্জ-১ আসনে প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ারের ছেলে খোন্দকার আখতার হামিদ ডাবলু, গাজীপুর-৩ আসনে প্রয়াত আসম হান্নান শাহের ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, মানিকগঞ্জ-২ প্রয়াত শামসুল ইসলাম খানের ছেলে মাইনুল ইসলাম শান্ত প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়ে প্রত্যয়নের চিঠি দিয়েছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে প্রয়াত হারুনার রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে আফরোজা খান রীতা, নওগাঁও-৩ আসনে প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ হামিদ সিদ্দিকী, জয়পুরহাট-১ আসনে প্রয়াত মোজাহের আলী প্রধানের ছেলে মাসুদ রানা অথবা প্রয়াত আবদুল আলীমের ছেলে ফয়সল আলীম, চাঁদপুর-২ আসনে প্রয়াত নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদা, বি-বাড়ীয়া-৫ আসনে প্রয়াত কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস মনোনয়ন পেয়েছেন। আর ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজিউর রহমানের ছেলে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পাথর্ ভোলা-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রয়াত ফজলুর রহমানের সহধমির্ণী অধ্যাপিকা কামরুন্নাহার শিরিন নাটোর-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top