logo
logo
news image

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ.লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটা দিন না সুষ্ঠুভাবে, দেখেন, কে কতটা আসন পান। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ৩০টার বেশি আসন পাবেন না।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনার কথার প্রতিক্রিয়া আমি দিতে চাই না কখনো। কারণ অধিকাংশ কথা অবান্তর বলেন তিনি।’

জামায়াতকে কত আসন ছাড়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কেউ জামায়াত নাই। এখন সব ধানের শীষ। জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একটি জিনিস ভয় পান, সেটা হলো সুষ্ঠু নির্বাচন।

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ও পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে বাংলাদেশে একদিকে জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারগুলোকে হরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সব সম্ভবনাকে রুদ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিগত সাত বছর যাবৎ এই সংশোধনী ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনও আমরা এসব কারণে বর্জন করেছিলাম। আজ দায়িত্বশীল সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠন সকলেই এই বিষয়ে একমত যে বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এটাই এখন এই মুহূর্তে জাতির সবচেয়ে বড় সংকট। এই সংকট সমাধানের জন্য আমরা বার বার আলোচনার কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।’

‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, বর্তমান সংসদ বাতিল, কারারুদ্ধ দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা, প্রশাসনের রদবদলের দাবি করে আসছি। এই কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের পক্ষে থেকে সাত দফা দাবি জানিয়েছি। সরকার কোনো কর্ণপাত না করে একতরফাভাবে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রহসনের নিবাচন অনুষ্ঠান করতে চলেছে।’

শুক্রবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘তাদের বশংবদ নির্বাচন কমিশনও সরকারের নীল-নকশা বাস্তবায়নের জন্য উৎসাহ নিয়ে কাজ করে চলেছে। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচন কমিশন সংবিধান প্রদত্ত তাদের অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু করার কোনো উদ্যেগ নিচ্ছে না। উপরন্তু সরকারের নীল-নকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা বার বার তাদের সমস্যাগুলো নিরসনের আহ্বান জানিয়েছি। তারা কর্ণপাত করছে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ তৈরি করেনি, কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। সরকারের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মামলা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছে। অথচ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তফসিলের পরে কোনো গ্রেপ্তার করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটা অত্যন্ত পরিষ্কার এই নির্বাচন কমিশন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের অবস্থাতে নেই। তারা সরকারের নীল-নকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

‘এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা স্পষ্টভাবেই বলতে চাই, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধ করুন, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিন, অন্যথায় উদ্ভূদ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সকল দায়দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে।’ বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন খোকনকে গত ২৮ নভেম্বর নমিনেশন পেপার জমা দিয়ে ফেরার পথে সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করে। এরপর তাঁর কোনো সন্ধান ছিল না। ২৯ তারিখে ফোন পেয়ে মিন্টু রোডে ডিবি অফিসে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়। গতকালই তাঁকে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে দুই দিনের রিমান্ডে লালবাগ থানায় রাখা হয়েছে। তাঁকে কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top