logo
logo
news image

বিএনপির ২০৬ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা

সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৬টির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বিএনপি। ওই তালিকায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম নেই। কারণ ফেনী-১ আসনে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল এখনো নির্বাচন কমিশনে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। বিএনপির পক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে ৯৪টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা বাকি থাকলেও সেগুলো সবই শরিক ২০ দলীয় জোট বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ৬২ থেকে ৬৫টি আসন তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। বাকি আসনগুলোয় বিএনপির প্রার্থীই থাকবেন। তবে ওই মনোনয়ন ঘোষণা করা হতে পারে আজ শনিবার অথবা আগামীকাল রবিবার। যদিও ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের নাম আজ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তবে বিএনপির বাকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারণ ইসিতে আপিল শুনানির শেষ দিন আজ। গতকাল দ্বিতীয় দিনেও বিএনপির ২১ প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আজও অনেকে পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের প্রার্থিতার বিষয়ে গতকালও সিদ্ধান্ত দেয়নি ইসি। তাঁদের ভাগ্য ঝুলে আছে। এদিকে ইসির শুনানিতে সন্তুষ্ট না হয়ে অনেক প্রার্থী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের পর বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

এলডিপির সভাপতি ড. অলি আহমদ ছাড়া ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্য সব প্রার্থী ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন। অলি মনোনয়ন পাচ্ছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে।

এদিকে তালিকা প্রকাশের পরপরই গত রাতে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক করতে যান মির্জা ফখরুল। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে রাত ৯টায় তিনি গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফেরেন। এরপর রাত ১০টায় চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দলীয় চিঠি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় রাজশাহী-১ আসন দিয়ে।

ঘোষিত তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু (চুয়াডাঙ্গা-১), কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন (কুষ্টিয়া-৩), ফয়সল আমিনসহ (জয়পুরহাট-২) অনেকে মনোনয়ন পাননি। কুষ্টিয়ার অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জের গিয়াসউদ্দিনের সমর্থকদের পাশাপাশি মনোনয়নবঞ্চিদের অনেকের সমর্থকরাই সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে। কার্যালয় থেকে মাইকে তাদের বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হলেও তারা থামেনি। রাত ১০টায় বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিল। ঘোষিত তালিকায় দুটি আসন থেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অন্যদিকে তালিকায় ২০ দলীয় জোটের শরিক পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের (পিপিবি) প্রার্থী রিটা রহমানের নাম রয়েছে। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে রংপুর-৩ আসন থেকে। তালিকায় মোট ৯ জন নারী নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তাঁরা হলেন রিটা রহমান (রংপুর-৩), কামরুন্নাহার শিরিন (নাটোর-১), সাবিনা ইয়াসমিন ছবি (নাটোর-২), রুমানা মোরশেদ কনক চাঁপা (সিরাজগঞ্জ-১), জেবা আমিন খান (ঝালকাঠি-২), ডা. সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১), তাহমিনা জামান (নেত্রকোনা-৪), শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২) ও হাসিনা আহমেদ (কক্সবাজার-১)।

তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জহিরউদ্দিন স্বপন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, নজির হোসেন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত বেশির ভাগ সাবেক এমপি মনোনয়ন পেয়েছেন।

বিএনপির ব্রিফিং : এদিকে গতকাল বিকেলে গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৬ জনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ফখরুল বলেন, ‘এই নির্বাচনে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা অংশ নিচ্ছি আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আমাদের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের বিভিন্ন রকমের সমস্যা তৈরি করেছে, বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখান থেকে অনেকে বেরিয়ে এসেছেন। সে জন্য আমরা আজকে বিএনপির ২০৬ জনের চূড়ান্ত নামের তালিকা প্রকাশ করছি। সব নয়, কিছু কিছু জায়গায় আমাদের নির্বাচন কমিশন থেকে যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে আসেনি অথবা আদালতের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে সেগুলো বাদ দিয়ে করছি।’ তিনি বলেন, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের আসনবিন্যাস চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামীকাল (শনিবার) সেটা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অনেক বিবেচনার পর আমাদের স্থায়ী কমিটির পূর্ণ আলোচনার পর এই প্রার্থীরা মনোনীত হয়েছেন। আমরা সবাই জানি, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তাঁরা আবেদন করেছেন প্রতি প্রার্থীর কাছে এবং জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এই নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়ে প্রত্যেক প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। এখানে কোনো রকমের মতদ্বৈধতা, মতবিরোধ যাতে না থাকে। সবাইকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনকে নিয়ে বিজয় অর্জনের জন্য নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আমরা জাতির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি আজকে গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আমাদের এই নির্বাচনে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র বিজয়ী হবে।’

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top