logo
logo
news image

চট্টগ্রামের উন্নয়ন এখন শুধু ফ্লাইওভারেই দৃশ্যমান

রাজধানী ঢাকার পরই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরী চট্টগ্রাম। প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং ভোগ্যপণ্যের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামকে পরিণত করেছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে। কিন্তু বন্দরনগরী হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার, তার অনেকটাই অনুপস্থিত চট্টগ্রামে। গত কয়েক বছরে বন্দরনগরীর উন্নয়নে অনেক কিছু করার থাকলেও ফ্লাইওভারগুলো ছাড়া কোনো উন্নয়নই দৃশ্যমান নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণের ফলে দিন দিন ম্লান হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর অতীত উজ্জ্বলতা।এতে একদিকে বাড়ছে জনদুর্ভোগ, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না ব্যবসা-বাণিজ্যে।

দেশে ভোগ্যপণ্য বাণিজ্যের সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণ হয় খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের মাধ্যমে। অথচ কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এ শতবর্ষী বাজারের অবকাঠামো এখনো মান্ধাতা আমলের মতোই। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লাইফলাইন খ্যাত চাক্তাই খাল এখন চট্টগ্রামের দুঃখ। খালটি প্রায় মৃত হয়ে পড়ায় বর্ষা মৌসুম তো বটেই, বছরের প্রতিটি পূর্ণিমা-অমাবস্যার পূর্ণ তিথিতেও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় খাতুনগঞ্জ। সরু গলি আর অপরিকল্পিত অবকাঠামোর ফলে পুরো এলাকাটি হয়ে পড়েছে যান চলাচলের অনুপযোগী। কিন্তু এত সমস্যার মধ্যে থাকা ঐতিহ্যবাহী এ পাইকারি বাজারের উন্নয়নে নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ।

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দর। এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক সিস্টেম প্রবর্তন করা হয়নি। বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে বহুল ব্যবহূত সড়কটি (বারিক বিল্ডিং থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত) এখনো দুই লেনে রয়ে গেছে। ফলে বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়া যানবাহনগুলোই চট্টগ্রাম শহরের যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।সমুদ্রতীরবর্তী শহর হলেও জলাবদ্ধতা এখন নগরবাসীর সবচেয়ে বড় সমস্যা। একটু ভারি বৃষ্টিপাত হলেই শহরজুড়ে থৈ থৈ পানি। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যেতে পারে না বলেই এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ ও আরএস শিট অনুযায়ী, এক সময় চট্টগ্রামে ৭০টি খাল ছিল। চট্টগ্রাম শহরের ১৯৬৯ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে বর্ণিত ৭০টি খালের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৩৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। শুধু কালুরঘাট সেতু থেকে কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত ৩৪টি খাল নদীতে মিশেছে। এর মধ্যে ১২টি খালের দুই-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণভাবে বেদখল হয়ে আছে।এ সড়কের উভয়পাশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অনেকেই গত কয়েক বছরের দুর্ভোগে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভারী শিল্প এলাকার যানবাহন চলাচল করায় গভীর রাতেও যানজট থাকে আরাকান সড়কে।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top