logo
logo
news image

চিকিৎসার সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ

উন্নত চিকিৎসা নিতে রোববার দুপুরে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আক্তার সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও তিনি শারিরিকভাবে খুব দুর্বল হয়েছেন। তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সাতের কাছাকাছি। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেক।

এরশাদের একান্ত সচিব সমকালকে জানান,  রোববার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি সিঙ্গাপুর যাবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। দেশটির ন্যাশনাল মেডিকেল ইউনিভারসিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। তিনি কবে দেশে ফিরবেন তা নির্ভর করছে চিকিৎসকদের ওপর। এরশাদের সঙ্গে খালেদ আকতারও সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, এরশাদ সাধারণ ফ্লাইটে যেতে রাজি ছিলেন না। তিনি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যেতে চেয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।

এরশাদের অবস্থা গুরুতর কিনা এ প্রশ্নে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, এ প্রশ্নের তিনি দিতে পারবেন না, চিকিৎসা বলতে পারবেন। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, তিনি আশা করছেন সুস্থ হয়ে এরশাদ দেশে ফিরে আসবেন বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদ।

জাতীয় পার্টির সূত্র জানিয়েছে, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিৎসাধীন ৮৯ বছর বয়সী সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শারিরিক অবস্থা ভাল নয়। স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারছেন না। স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়াও করতে পারছেন না। তার লিভারে বিলোরবিনের পরিমাণও বেড়েছে।

গত কয়েক দিনে এরশাদকে সিএমএইচ হাসাপতালে দেখে আসা জাতীয় পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থা ভাল নয়। কথা বললে সাড়া দেন না। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। খাওয়া দাওয়া একেবারেই করতে পারছেন না।

সামজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অসুস্থ এরশাদের ছবি ছড়িয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি বয়স ও রোগের ভারে নুজ্য। শারিরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব দাবি করেছেন, এরশাদের শারিরিক অবস্থা গুরতর নয়। বয়েসের কারণে নানান বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। তার যেসব শারীরিক সমস্যা তাএ বয়েসে স্বাভাবিক ব্যাপার।

এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির হাল কে ধরবেন- এ প্রশ্নে গত কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন ছিল দলটির অভ্যন্তরে। দলের নেতাদের একাংশ চেয়েছিলেন এরশাদপত্নী রওশন এরশাদকে উত্তারাধিকার মনোনীত করা হোক। কিন্তু এরশাদ বেছে নিয়েছেন তার ভাই জিএম কাদেরকে। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে নিজেই এ পদে বসেছেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদে বসিয়েছেন এরশাদ। গত শুক্রবার নির্দেশনা জারি করেছেন, তার অবর্তমানে কিংবা বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এরশাদ আহ্বান জানান, আগামী কাউন্সিলে যেনো জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান করা হয়।

এরশাদের ঘনিষ্ট এক নেতা বলেছেন, জিএম কাদের বিরোধীরা রওশন এরশাদকে নেতা হিসেবে চাইলেও তার শারিরিক অবস্থা ভাল নয়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে থাকতে চাইলেও দলের নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী নন। তাই ৭৬ বছর বয়েসী রওশন এরশাদের পরিবর্তে জিএম কাদেরকে বেছে নিয়েছেন এরশাদ।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top