logo
logo
news image

প্রশাসনের তত্বাবধানেই বিশ্বইজতেমার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর অদূরে গাজীপুর মহানগরী শিল্পনগরী টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম পর্বের তিনদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা  রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নির্ধারিত দিনক্ষণ অনুযায়ী আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি সম্মিলিতভাবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে তাবলিগ জামাতের নেতারা সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। প্রশাসনের তত্বাবধানেই বিশ্বইজতেমার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে ।
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা, ইজতেমায় আগত বিদেশি মেহমানদের ভিসার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো: জাহাঙ্গীর আলম, বিভাগীয় কমিশনার ও গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে মাঠ পরিস্কার এবং যাবতীয় ইউটিলিটিজের ব্যবস্থা করা হবে। তবে, ইজতেমার বাকী কাজ কীভাবে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটু মতবিরোধ ছিল। তারা ঐক্যমত হয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। তারপর তাদের মতামত নিয়ে ইজতেমার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত তা ঠিক আছে।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখুন সারা বিশ্বেই তবলীগ জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও বাদ যায়নি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাবলীগ জামায়াত আগের মতোই একসঙ্গে থাকবে এবং এবারের ইজতেমাও একই দিনেই হবে। আমরা সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা যে যাই বলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবার কথা শুনেছি এবং একমতে পৌঁছেছি। দুই পক্ষ মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ইজতেমা হবে। এখন আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব হচ্ছে ইজতেমায় যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা না হয় সেই ব্যবস্থা করা।
মাওলানা সা’দ এবার আসবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বলেন, এটা নিয়ে আজ কোন আলোচনা হয়নি।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, দ্বন্ধ নিরসনের পর তাবলিগ জামাতের দুপক্ষ মিলে ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা আয়োজন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই তিনদিন একসঙ্গে টঙ্গীর ময়দানে অন্যান্য বছরের মতো বিশ্ব ইজতেম সুন্দরভাবে পালিত হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, আলোচনা চলছে, সমস্যার সমাধান হবে। কে বয়ান করবেন, কে মোনাজাত করবেন এবং কে পরিচালনা করবেন এগুলো নিয়ে ঝামেলা আছে। আর তা নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলোচনা চলছে।
ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, এলিট ফোর্স র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) র‌্যাব বেনজীর আহমেদ, ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, গত ২৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় ইজতেমায় বিবাদমান দুই পক্ষের সমানভাবে অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে তিনদিনের এই ইজতেমা আয়োজনে করণীয় নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইজতেমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতসহ মুসল্লিদের বিভিন্ন সেবা বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইজতেমা ময়দানের আনুষাঙ্গিক প্রস্ততিমূলক যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন-গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামিল আহমেদ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (অপরাধ) শরিফুর রহমান, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমীরুল ইসলাম খানসহ জেলা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
অপর দিকে, ওই সভায় মাওলানা সাদপন্থীদের মধ্যে মাওলানা হারুনুর রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার মহিবুল্লাহ, মুফতি মিজানুর রহমান, ডা. আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান এবং মাওলানা যুবায়েরপন্থীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক, ডা. আলী আজগর অংশ গ্রহন করেন।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top