logo
logo
news image

পণ্যজট কমাতে অখালাসকৃত পণ্য ১০ দিন পর নিলামে তুলবে এনবিআর

কাস্টম হাউজে পণ্যজট কমাতে অখালাসকৃত পণ্য ও চোরাচালানের মাধ্যমে আসা আটককৃত পণ্য নিলামে বিক্রি করতে নতুন নীতিমালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া চোরাচালানের মাধ্যমে আসা পণ্য আটকের পর পরই নিলামে বিক্রি করতে পারবে কাস্টম হাউজ। বৈধ পণ্য আমদানির পর তা খালাস না করলেও নির্ধারিত সময়ের পর ১০ দিনের নোটিস দিয়ে নিলামে বিক্রি করে দিতে পারবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এনবিআর সদস্য (কাস্টমস নিরীক্ষা ও আধুনিকায়ন) খন্দকার আমিনুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়েছে। গত সপ্তাহে এ নির্দেশনা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

নির্দেশনায় এনবিআর বলছে, চোরাচালান বা অবৈধভাবে আসা পণ্য আটক করার পরই তা বাজেয়াপ্ত করে নিলাম ডাকতে পারবে কাস্টম হাউজ। অন্যান্য বৈধ পণ্য আমদানির পর ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস না করলেও তা বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করতে পারবে কাস্টমস। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পর ১০ কার্যদিবস সময় দিয়ে নোটিস করতে হবে কাস্টমস কর্মকর্তাদের। আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে নোটিসের মাধ্যমে জানাতে হবে।

নির্দেশনা অনুসারে, আটককৃত পণ্যের মধ্যে স্বর্ণ-রৌপ্য, তাঁতের সুতা, মদ, সিগারেট ও প্রত্নসম্পদ নিলামে তুলতে পারবে না কাস্টমস। আটককৃত সব স্বর্ণই জমা রাখতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে। তাঁত সুতার ক্ষেত্রে তা নিলাম ছাড়াই বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে। আটক শিল্প-কারখানার কাঁচামাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে নিলাম আহ্বান করতে হবে। মদ, সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্য আটক হলে তা পর্যটন করপোরেশনের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারবে কাস্টমস। আর পর্যটন করপোরেশন তা ক্রয় না করলে নিলামে না তুলে ধ্বংস করতে হবে কাস্টমসকে।

নতুন নির্দেশনার আলোকে প্রতি মাসে অন্তত দুটি নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে কাস্টম হাউজকে। নিলামের জন্য এনবিআর নির্ধারিত কমিটির অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন গনমাধ্যম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। তবে পচনশীল পণ্য হলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাড়াই কাস্টম হাউজের পার্শ্ববর্তী দুই কিলোমিটারের মধ্যে মাইকিং করে ঘোষণা দিতে হবে। নিলামের আগে পণ্যের লট তৈরি করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। গুণগত মান ও আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে পণ্যের। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের পণ্যের আনুমানিক মূল্যের ১০ শতাংশ পরিশোধ করে নিলামে অংশ নিতে হবে। তবে দরদাতাকে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স, মূসক নিবন্ধন নম্বর, আয়কর শনাক্তকারী নম্বরধারী হতে হবে।

নতুন আইনে নিলামকাজে বাধা প্রদানকারীর জন্যও শাস্তির বিধান রেখেছে এনবিআর। আইন অনুযায়ী কোনো নিলাম ক্রেতা বা অন্য কোনো ব্যক্তি নিলামকাজে বাধা দিলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারবে কাস্টম হাউজ। ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশগ্রহণ করত পারবে না। তাছাড়া কাস্টমস আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

নিলাম অযোগ্য পণ্যের বিষয়ে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে মদ, হেরোইন, গাঁজা, সিগারেটসহ নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করতে প্রতি ছয় মাসের মধ্যে অন্তত একবার ডেস্ট্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পণ্য ধ্বংস করলে কমপক্ষে পাঁচ কার্যদিবস আগে তা কমিটিকে জানাবে কাস্টম হাউজ। কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এসব পণ্য ধ্বংস করে এনবিআরে প্রতিবেদন দেবে কাস্টম হাউজ।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top