logo
logo
news image

প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবিতে প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে যোগ দান

আইডিইএক্স-২০১৯ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির ন্যাশনাল এক্সিভিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মেলার (আইডিইএক্স-২০১৯) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এসময় তাকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর উপ সর্বাধিনায়ক ক্রাউন প্রিন্স শেখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফরকে ঘিরে উৎসুক প্রবাসীরা তাকে স্বাগত জানাতে ভোরে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়। এসময় আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, আল আইনসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতৃত্বস্থানীয় প্রবাসীরা ছুটে আসেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সফর হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে সরাসরি দেখা করার সুযোগ হয়নি তাদের। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবদ্ধ রেখে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভযাত্রা সহকারে আবুধাবির সেন্ট রেজিস হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাই আমিরাতের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মকতুমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। শেখ হাসিনা আল বাহার প্রাসাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং দুবাইয়ের শাসক মরহুম শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের স্ত্রী শেখ ফাতিমা বিনতে মোবারক আল কেতবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশে ফিরবেন।তিনি গত শনিবার রাতে জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ এজ এ সিকিউরিটি থ্রেট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষায় ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে কাজ করার জন্য ধনী দেশগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের যথেষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনা এবং অর্থায়ন রয়েছে। আমাদের এখন কেবল প্রয়োজন সমাজের সর্বত্র ধনিক শ্রেণির সদিচ্ছা, আগ্রহ ও প্রচেষ্টা। বাংলাদেশে সাইক্লোন, ঝড় জলোচ্ছ্বাস এবং মৌসুমী বন্যা মানুষের জীবন জীবিকার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এ বিষয় কারো কোন সন্দেহ থাকে, তাদেরকে আমি বাংলাদেশে এসে প্রকৃত অবস্থা দেখে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
২০১২ সালে ইউএনজিএ সিদ্ধান্তের বিষয় পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় সমষ্টিগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আরো অনেক হুমকির কারণে লাখ লাখ মানুষ পৈর্তৃক ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, নদী ভাঙন, লবণাক্ত পানি এবং ভূগর্ভস্ত পানিতে আর্সেনিকের মিশ্রণের কারণে এসব ঘটছে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে পানিতে অ্যাসিডিটি বাড়ছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যদিও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা সামান্যই।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়ছে এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতে অনিয়ম এবং অতিবৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কৃষকের জন্য চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন নতুন রোগ-ব্যাধি বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে ম্যালেরিয়া সফলভাবে নির্মূল করা হলেও সেটি আবার ফিরে আসার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, একই ধরনের রোগ-ব্যাধি বাড়ছে খাদ্যশস্য, পশুসম্পদ ও পোল্ট্রিতে সেক্টরেও। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ুর এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্বে চাল ও মাছ উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। সবজি উৎপাদনে পঞ্চম এবং হর্টিকালচারে শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বের কাছে যাদুকরী পরিবেশবান্ধব পাটের আাঁশ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিজস্ব উদ্যোগে বৈরি অবস্থায় টিকে থাকার উপযোগী শস্যের জাত উদ্ভাবন করেছি। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, তার সরকার নিজস্ব সম্পদ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন করেছে এবং অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ কোটি মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি: আমাদের অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে পারব কি না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও অন্যান্য অনেক দেশেরই জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, বিগত এক দশক ধরে তিনি কোপেন হেগেন, নিউইয়র্ক, কিউবা ও ইসা-শিমার বৈশ্বিক আলোচনায় তিনি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে বারবার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। অতএব অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও মানবীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের মূলে যে পরিবেশ সংকট প্রধান ও একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা প্রশ্নাতীত। তিনি জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্যে জীবনযাত্রা, আচরণ, পদ্ধতি ও অর্থনীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top