logo
logo
news image

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি না বাড়ালে করপোরেট গভর্ন্যান্স ব্যর্থ হবে

বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নজরদারি আরো না বাড়ালে করপোরেট গভর্ন্যান্স ব্যর্থ হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালী হওয়া জরুরি।নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে সুশীল সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে বলে মত দিয়েছেন ভারতে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জুনায়েদ কামাল আহমাদ।

গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ১৮তম নুরুল মতিন মেমোরিয়াল লেকচার ‘এথিকস ইন ব্যাংকিং’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. জুনায়েদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর জন্য প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। খুব সহজে নৈতিকতার চর্চা চালু করা কঠিন। এজন্য আর্থিক ব্যবস্থায় পাবলিক পলিসি ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক শক্ত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এ অর্থনীতিবিদ বলেন, করপোরেট গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে ব্যাংকের গভর্নিং বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট ও সব কর্মীকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করপোরেট গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি না থাকে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা টেকসই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে, ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজের বিশেষ ভূমিকার ওপর জোরারোপ করে তিনি বলেন, আর্থিক ব্যবস্থায় সোচ্চার শক্তি (অ্যাডিশনাল ভয়েস) হিসেবে সুশীল সমাজকে কাজ করতে হবে। সুশীল সমাজের নজরদারি ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চেক অ্যান্ড ব্যালান্স স্থাপনে সহায়ক হবে। ড. জুনায়েদ কামাল আহমাদ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নৈতিকতা নিয়ে স্মারক বক্তৃতা আয়োজনের জন্য বিআইবিএমকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির সক্ষমতা নিয়মিত বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ব্যাংক ব্যবস্থা নজরদারিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি আলাদা বিভাগ কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সহযোগিতায় সবসময়ই ঋণখেলাপি, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

ফজলে কবির বলেন, অনৈতিক চর্চাগুলো দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আজকের মেমোরিয়াল লেকচারের মাধ্যমে তরুণ ব্যাংকাররা সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং ব্যাংকিং খাত আরো পেশাদারিত্বের দিকে অগ্রসর হবে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতার চর্চার জন্য এ ধরনের মেমোরিয়াল লেকচার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানান বিআইবিএমের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম।
 

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top