logo
logo
add image
news image

সফল উদ্যোক্তা শাহনাজ ইসলাম হয়ে উঠার গল্প

বগুড়ার মেয়ে শাহনাজ ইসলাম শখ। তার পরিচিতি ‘শিল্পী আপা’ নামে।তার শৈশব কেটেছে বগুড়া একটি শহরে। বাবা ছিলেন একটা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ।  নবম শ্রেণিতে উঠেই শাহনাজ এর মা-বাবা তার বিয়ে ঠিক করলেন।তার স্বামী ছিলেন  বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রকৌশলী।  স্বামীর ঘরে গিয়েও দমে যান নাই শাহনাজ। ঘরেই বসে সে তার পড়াশোনা চালিয়েছেন । শাহনাজ তার  সময় কাটাতে মাঝে মাঝে সেলাই আর রান্নার শখে ডুবে যান ।  নতুন রান্না আর নিজের করা অধুনিক ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ সেলাই করতে লাগলেন। এমন কি সে  বাজার থেকে শাড়ি কিনে আনতেন ও তাতে হাতের কাজ করতে লাগলেন। নিজের কাজ করা সকল পোশাক পরার পর পারার লোকজন তার কাজের প্রশংসা করতেন। শাহনাজ কিছু নারীদের নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন রান্নার প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন।

উদ্যোক্তা শাহনাজ ইসলাম 

শখ নিয়ে সময় কাটানো  এই শাহনাজ এখন একজন সফল একজন উদ্যোক্তা । তার আছে একটি  বুটিক শপ, ফ্যাশন হাউস এবং একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টের । এই দুইটি প্রতিষ্ঠানেরই শহরে ব্যাপক সুনাম আছে। সংসার ও ব্যবসা তাকে  সামলাতে হয় একসঙ্গে । শাহনাজ  তার এই ব্যবসার যে  আয় হয় তা দিয়া এক সন্তানকে পড়াশোনার জন্য কানাডায় পাঠিয়েছেন । আর তার  অন্য দুই সন্তানকে পড়াচ্ছেন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

শখ থেকে একদিন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প নিজেই আমাদের বললেন শাহনাজ ইসলাম। তার দুই সন্তানকে কোলে নিয়েই ১৯৯২ সালে এইচএসসি পাস করেন।  হাতের কাজের অনেক  আগ্রহ ছিল তার । দেখে দেখে  ২০টি শাড়ির অর্ডার পেলেন। রাতের মধেই কাছের একটা  দোকান থেকে কিছু শাড়ি কিনে তাতে হাতের কাজ করলেন। প্রতিটি শাড়ি ৮০০ টাকা করে তার  কাছ থেকে কিনে নিত তার  আত্মীয়রা আর তারা সেই শাড়ি ২০০০ টাকায় বিক্রি করে। এরপর বগুড়ায় নিজ বাড়ি  ফিরে মালতিনগরের বাসাতেই ১৫ হাজার টাকার পুঁজিতে একটা  বুটিক হাউস খুলে দিলেন।

সফল হয়ে উঠা

শাহনাজ ইসলাম বলেন, বছর ঘুরতেই পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ‘শখ’ নামের একটা বড় বুটিক শপ খুলে বসেন । নিজেই সকল ডিজাইন করেন।অল্প কিছু দিনেই তার নাম শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। তখন বগুড়া শহরের তেমন একটা নারী উদ্যোক্তাদের ছিল না । শাহনাজ নিজেই তার সকল কাঁচামাল কিনতেন ।  সবার কাছ থাকে অর্ডার নিতেন । একজন নারী হয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা  দোকানে বসে ক্রেতা সামলাতেন । যা ততকালেন সময় বিষয়টি অনেকের কাছে ভালো লাগত না।  কিন্তু সব কিছুর পড়ও তার  স্বামী শফিকুল ইসলাম তাকে  ব্যবসায় উৎসাহ দিতেন।  ব্লক, বাটিক ও নকশার কাজ করা তার সকল  সালোয়ার-কামিজ, থ্রিপিস, শাড়ি, বিছানার চাঁদর, কুশন কভার, শাল চাদরের চাহিদা ব্যাপক  ভাবে বেড়ে যায়।

শাহনাজ ইসলাম জানান, ২০০১ সালে তার  স্বামী মারা যাওয়ায় অনেকটা ভেঙে পড়েন তিনি । তখন তাঁর দোকানে প্রায় ৮০ লাখ টাকার  মতো পুঁজি খাটছে।  শাহনাজ বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি তার ছেলে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করে । ওর পরামর্শেই এক বছর আগে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে নতুন করে  “শখ” চায়নিজ রেস্টুরেন্ট দিয়েছি। দেশি পোশাক ও দেশি খাবারকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরাটাই এখন আমার অনেক বড় শখ।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top