logo
logo
news image

পাঁচবিবিতে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি পরিবার

আহসান হাবিব: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কিশোর মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী চক্রের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পৌর এলাকার মহাজের কলোনির  মাসুদ রানা ও তার পরিবারের লোকজন।

মাসুদরানা জানায়,পরিবারের অভাব অনটনের কারনে স্টেশনের পূর্বপার্শ্বে একটি ভ্যারাইটি স্টোরে ছোট ছেলে আলিফকে কাজে লাগিয়ে দিই। গত ৪ মার্চ সোমবার রাতে  আলিফ দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে বরগা বাজার পৌঁছলে আলিফের কাছ থেকে মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায় মাদকসেবীরা। আলিফ ৫ মার্চ মঙ্গলবার হারানপট্রি এলাকার মিরু ও নির্জন নামে ২ ছিনতাইকারীকে চিহ্নিত করে দিলে উল্টো  তারাই আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তিনি আরো বলেন,১নং রেলগেট থেকে বরগা বাজার পর্যন্তু এসব ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেশি। এরা সারারাত বাইরে ঘুরে বেড়ায় দিনে ঘুমায়।   ছিনতাই ও চুরির টাকা দিয়ে মাদক সেবন করে। আমার ছেলের মোবাইল ছিনতাই করে ওই রাতেই বিক্রি করে মাদক সেবন করে। থানায় অভিযোগ করেননি কেন?জানতে চাইলে মাসুদ রানা বলেন,থানায় যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু একজন বলল থানায় গিয়ে কি হবে। ওরাতো কয়েকদিনের মধ্যেই বেরিয়ে আসবে। তারপর ক্ষতি করতে পারে। তাই আর থানায় যাওয়া হয়নি। ইমরান নামে একজন মোবাইলটি উদ্ধার করে দেন বলে তিনি জানান।

আলিফের মা মরিয়ম জানায়,মোবাইল ছিনতাইকারী মিরু আমাকে চিৎকার করে বলতে থাকে আপনাকে খেয়ে ফেলে দিব। আমাকে চিনেন,আমি কি করতে পারি জানেন?

আলিফ জানায়,আমি রাতে রেলস্টেশনের পূর্বপাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিলাম। এসময় পৌর প্রেসক্লাব সংলগ্ন বরগার শেডের নিচে অন্ধকারে বসে থাকা ৩ জন আমাকে প্রথমে দাঁড়াতে বলে। আমি দাঁড়াতে না চাইলে তারা চিৎকার করে বলে,এই বেশ্যার ব্যাটা দাঁড়া!তখন আমি ভয়ে দাঁড়িয়ে যাই। একপর্যায়ে তারা আমার কাছে টাকা না পেয়ে মারপিট করে। এসময় মিরু আমার কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি চায়ের দোকান থেকে ৫/৭ জন লোক দেখলেও তারা কেউ এগিয়ে আসেনি!

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পুকুরের মাছ ,গাছের ফল ,ঘরের আসবাবপত্র,বৈদ্যুতিক বাতি,মোবাইল,কম্পিউটার, দোকানপাট,টাকা পয়সা,সোনাগহনা চুরিসহ নানা অপকর্ম করে আসছে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট। এলাকার বড় ভাইদের আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়ে এসব মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীরা ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বড় ভাইদের আশির্বাদ থাকায়  পুলিশের হাতে একাধীকবার আটক হলেও বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি এদের। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী এসব অপরাধী ও মাদকসেবীদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এলাকায় চুরি ছিনতাই বৃদ্ধির পাশাপাশি খুন  রাহাজানির মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ৫ সদস্য রাতে পৌর প্রেসক্লাবে এসে তাদের অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। বর্তমানে  নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ অপরাধ প্রবণ ওই এলাকায় লাইটিং ও পুলিশি টহল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। 

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top